• শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাইলফলকে

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে। 


বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশের রিজার্ভ এখন ৩০ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের অর্থনৈতিক দৃঢ়তা ও প্রবৃদ্ধির ধারাকে প্রতিফলিত করছে। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত হিসাব অনুসারে, এর প্রকৃত পরিমাণ ২৫ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার হলেও বাস্তবে ব্যবহারের উপযোগী, যা দিয়ে বৈদেশিক দায় পরিশোধ করা সম্ভব, তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক উপাদান কাজ করেছে। সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে মুদ্রাবাজারে। ডলারের সংকট কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও গত ১০ মাসে আর ডলার বিক্রি করেনি, যা রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।


বিশ্বব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান, ওপেক ফান্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে চলতি মাসেই প্রায় ৯০ কোটি ডলার ঋণ ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জুন মাসের মধ্যে আরও প্রায় ২৪০ কোটি ডলার রিজার্ভে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এসব ঋণ আসলে জুন মাস শেষে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।


এসব ঋণ দীর্ঘমেয়াদি এবং কম সুদের হওয়ায় তা রিজার্ভের ওপর কোনো তাৎক্ষণিক চাপ সৃষ্টি করবে না, বরং এই অর্থ দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন, ব্যাংক খাত এবং রাজস্ব সংস্কারের কাজ আরও গতিশীল হবে।


২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার, যা চলতি অর্থবছরে ২৯ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বেশি। এছাড়া, রপ্তানিতেও ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে রিজার্ভের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।