সম্প্রতি প্রকাশিত খসড়া বিধিমালায় ‘পরিবার’ ও ‘পারিবারিক সম্পর্ক’-এর সংজ্ঞায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে বিদ্যমান নীতিমালায় পরিবার বলতে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন এবং শ্বশুর-শাশুড়িকে বোঝানো হয়। তবে নতুন খসড়ায় এর সঙ্গে চাচা-চাচি, মামা-মামি, ভাগনে-ভাগনি এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য অনেক সময় সরাসরি পরিচালকদের মাধ্যমে নয়, বরং ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যেতে পারে। সেই সুযোগ বন্ধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে—ধরা যাক, কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি বড় মুনাফা, বোনাস শেয়ার বা নতুন বিনিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। এ তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জানার আগেই যদি কোম্পানির কোনো পরিচালক তার আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে গোপনে জানিয়ে দেন এবং তারা আগে থেকেই শেয়ার কিনে নেন, তাহলে সেটি ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বাজারের স্বচ্ছতা নষ্ট হয়।
আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো পরিচালক সরাসরি লেনদেন না করে আত্মীয়স্বজনের নামে শেয়ার কেনাবেচা করেন। নতুন বিধিমালায় পরিবারের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হলে এ ধরনের অনৈতিক লেনদেন শনাক্ত করা আরও সহজ হবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
খসড়া বিধিমালায় শুধু ইনসাইডার সংজ্ঞাই নয়, করপোরেট সুশাসনের কাঠামোতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচালকদের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সুশাসন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।