• শুক্রবার ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাত বদলেই টাকা! শেয়ারবাজারে সুযোগ না ফাঁদ?

  • পুঁজিবাজার
  • স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
  • প্রকাশিতঃ ১২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের আচরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত সপ্তাহজুড়ে এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তরের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড, সিরামিক ও ভ্রমণ খাত থেকে বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নিয়েছেন, যার ফলে এসব খাতে লেনদেন কমে গেছে। অন্যদিকে প্রকৌশল, সাধারণ বিমা, ট্যানারি ও বিবিধ খাতের কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগ বেড়েছে এবং লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বাজারে আস্থার ঘাটতি ও দ্রুত মুনাফার প্রত্যাশাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। বড় মূলধনি ও মৌলভিত্তিতে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিছুটা স্থবিরতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও স্বল্পমেয়াদে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন ছোট ও মাঝারি মূলধনের কোম্পানির দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বাজারে একটি “সেক্টর রোটেশন” তৈরি হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ারের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।


তবে এই প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ যখন কোনো খাত বা বাজারের লেনদেন মাত্র কয়েকটি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেই শেয়ারগুলোর দামে হঠাৎ বড় ওঠানামা হতে পারে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সহজেই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই বিশ্লেষকেরা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।


এদিকে বাজারের সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সূচক কিছুটা বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অর্থাৎ, বড় কিছু কোম্পানির দরবৃদ্ধি সূচককে উপরে তুললেও বাজারের ভেতরে দুর্বলতা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটেরই প্রতিফলন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক বড় মূলধনি ও মৌলভিত্তিতে শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে এবং তাদের মূল্য-আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বাজারের গড়ের নিচে রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ও ওষুধ খাতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


সম্প্রতি Prime Bank, Shahjalal Islami Bank এবং City Bank তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে রেকর্ড মুনাফা দেখিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ভালো অবস্থানে থাকা ব্যাংকগুলোর শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া LankaBangla Securities-এর এক জরিপেও উঠে এসেছে যে, চলতি বছরে ব্যাংক খাত শেয়ারবাজারে লেনদেনে নেতৃত্ব দিতে পারে।


সবশেষে বলা যায়, শেয়ারবাজারে এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও তা অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। বিনিয়োগকারীদের উচিত গুজব বা স্বল্পমেয়াদি লাভের আশায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক অবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনা করা। কারণ শেয়ারবাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ধৈর্য, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা।