logo

জেএমআই, বেস্ট হোল্ডিংস ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

Published:30 May 2026, 05:45 AM

জেএমআই, বেস্ট হোল্ডিংস ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য


অব্যবহৃত আইপিও ব্যয়ের খাত পুনর্বিন্যাস করেছে জেএমআই


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের আইপিও তহবিল ব্যবহারের ওপর নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান পিনাকী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের আইপিও অর্থ ব্যবহারের ওপর এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।


প্রতিবেদনে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানিটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধিমালা এবং আইপিও অনুমোদনের শর্ত অনুসারে তহবিল ব্যবহার করেছে। নিরীক্ষকদের মতে, আইপিও অর্থ ব্যবহারের বিবরণী যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।বাংলাদেশ শেয়ার বাজার


অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১৬০তম বোর্ড সভায় অব্যবহৃত আইপিও ব্যয়ের একটি অংশ পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমন ফ্যাসিলিটিজ (ইউটিলিটিজ অ্যান্ড আদার্স) খাতে অব্যবহৃত ১৬ লাখ ১৩ হাজার ১৩২ টাকা পুনরায় বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা এ প্রস্তাব অনুমোদন করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে প্রকাশ করা হয়।


নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কমন ফ্যাসিলিটিজ (ইউটিলিটিজ অ্যান্ড আদার্স) খাতে ৫ লাখ ৫৯ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর ফলে এ খাতে মোট ব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫০ টাকা, যা নির্ধারিত বরাদ্দের ৯৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।


এছাড়া একই সময়ে আইপিও ব্যয় খাতে ৯০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ফলে এ খাতে মোট ব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬৮ টাকা, যা নির্ধারিত বরাদ্দের শতভাগ ব্যবহার নির্দেশ করে।


নিরীক্ষক আরও নিশ্চিত করেছেন যে, কোম্পানিটি প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী আইপিওর অর্থ ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে বিএসইসির সম্মতিপত্রের শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভাউচার ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে আইপিও অর্থ ব্যবহারের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।শেয়ার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম


খেলাপি বিনিয়োগে বিপাকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বড় ঘাটতির তথ্য প্রকাশ


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঝুঁকি ও অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক। ব্যাংকটির নিরীক্ষক “এমফ্যাসিস অব ম্যাটার” অনুচ্ছেদে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, বহিঃনিরীক্ষক এবং ব্যাংকের মধ্যে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুটি নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির বিনিয়োগ, অফ-ব্যালেন্স শিট এক্সপোজার, শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগসহ অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে মোট প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে এর বিপরীতে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করেছে মাত্র ৯২৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ফলে মোট প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।বাংলাদেশের অর্থনীতি


নিরীক্ষক আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হলে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী লোকসান আরও বেড়ে যেত এবং মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিআরএআর), শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও অন্যান্য আর্থিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।


এছাড়া ২০২৫ সালে ব্যাংকটি মোট ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিনিয়োগ আয় দেখিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ভিত্তিতে ৯০ কোটি টাকা সমন্বয় করা হয়েছে। তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ থেকে ২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার আয় হিসাবভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে প্রফিট সাসপেন্স ও ক্ষতিপূরণ হিসাবের আওতায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন ছিল। এ সমন্বয় করা হলে ব্যাংকের ঘোষিত মুনাফা আরও কমে যেত।স্টক মার্কেট শিক্ষা


অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডে যথাক্রমে ১৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ও ৭৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বিএসইসির নির্দেশনায় বিলম্বিত প্রভিশনের কারণে কোম্পানিগুলোর নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) তুলনামূলক বেশি দেখানো হলেও, শেয়ারদর পতনের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। এসএলবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে ২৫০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজে ৪৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতির তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আইপিও তহবিলের ৩২৪ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে বেস্ট হোল্ডিংস


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেস্ট হোল্ডিংস পিএলসি তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে উত্তোলিত তহবিলের ৩২৪ কোটি ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ টাকা ব্যবহার করেছে। কোম্পানিটির আইপিও তহবিল ব্যবহারের ওপর নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ফেমস অ্যান্ড আর চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেস্ট হোল্ডিংস ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে আইপিওর মাধ্যমে মোট ৩৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ সমাপ্ত নবম প্রান্তিক পর্যন্ত কোম্পানিটি এ তহবিলের বড় অংশ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করেছে। বর্তমানে অব্যবহৃত তহবিলের পরিমাণ রয়েছে ৩০ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৯ টাকা।


কোম্পানিটি আইপিওর অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় করেছে “লাক্সারি কালেকশন” প্রকল্পের ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য সিভিল ওয়ার্কসে। এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৭৬ কোটি ৯২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। নবম প্রান্তিক শেষে এ খাতে মোট ব্যবহার হয়েছে ১৭২ কোটি ৫০ লাখ ২৯ হাজার ৫২৮ টাকা। এর মধ্যে শুধু নবম প্রান্তিকেই ব্যয় করা হয়েছে ৩ কোটি ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪০০ টাকা।


এছাড়া “লোকাল মেশিনারি অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ফর দ্য লাক্সারি কালেকশন” খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ খাতে ব্যবহার করা হয়েছে ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নবম প্রান্তিকেই পুরো অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


অন্যদিকে, বিদ্যমান দায় পরিশোধে বরাদ্দকৃত ১১৫ কোটি ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬১ টাকার মধ্যে ১১৩ কোটি ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪০১ টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এ অর্থ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড, স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, আইডিএলসি, আইপিডিসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং অগ্রণী ব্যাংকের দায় পরিশোধ করা হয়েছে।বাংলাদেশ শেয়ার বাজার


আইপিও ব্যয় বাবদ প্রসপেক্টাসে ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোম্পানিটি ইতোমধ্যে ব্যয় করেছে ১৪ কোটি ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার তুলনায় অতিরিক্ত ৭৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬ টাকা ব্যয় হয়েছে। নিরীক্ষকরা জানিয়েছেন, কিছু খাতে অতিরিক্ত এবং কিছু খাতে কম ব্যয়ের কারণে এ পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইপিও তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শর্ত অনুসরণ করেছে এবং ব্যয়ের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ করেছে।


নিরীক্ষকরা মত দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আইপিওর অর্থ ব্যবহারের তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ব্যয় কোম্পানির প্রসপেক্টাসে উল্লেখিত উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।